• ১ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Short Story

নিবন্ধ

স্বীকারোক্তি (ছোট গল্প)

গাড়িটা গ্রামের পথ ধরতেই মনটা যেন কেমন ভেসে গেল শরতের আকাশে সাদা মেঘের মত। দুপাশে সবুজ ধানক্ষেতের পাশে সাদা কালো ফুলের বন কতদিন পর দেখে মনটা নেচে উঠল। কতদিন পরে গ্রামের মাটির গন্ধ নিল বুক ভরে । প্রায় পনেরো বছর গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে গেছে চেতনা। আর প্রায় আট বছর দেশ ছাড়া। গ্রামের দূর্গা পূজো দেখেনি কতদিন। গ্রামের এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। রাস্তা ঘাট আর আগের এবড়োখেবড়ো নেই, সামান্য বৃষ্টির জলে যেখানে সাঁতার কাটা যেত। স্কুল থেকে ফেরার পথে ওই জমা জলে লাফিয়ে খেলা করে জামা ভিজিয়ে বাড়ি গিয়ে মায়ের কাছে বকা খেয়েছে কতদিন। গ্রামে ঢোকার মুখে গাড়ি থামিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে মনের জানালা দিয়ে উঁকি দিতে লাগল চেতনার ছেলেবেলা। মেধা আর চেতনা দুই বন্ধু। গ্রামের লোকে বলত হরিহর আত্মা। মেধার মা ছিল না, তাই চেতনার মা ওকে খুব স্নেহ করতেন। চেতনা মাঝে মাঝে ওর মাকে বলত, তুমি আমার থেকে মেধাকে বেশি ভালোবাসো। অন্যদিকে মেধার বাবা চেতনা কে বলতেন তুই আমার আরেক মেয়ে। এইভাবে উভয়ের বাড়িতে উভয়েই ভালোবাসা পেয়েছে। এই ভাবে বড় হতে থাকে দুজনে। চেতনা বরাবর পড়াশোনায় খুব ভালো আর মেধা মোটামুটি। কিন্তু কোনো দিন চেতনাকে হিংসা করেনি। বরং ও খুব খুশি হত চেতনার রেজাল্টে। বলত , কার বন্ধু দেখতে হবে তো। চেতনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট করলো। ওর ইচ্ছা ছিল কোনো ভালো স্কুলে পড়ার কিন্তু ওর বাবার সামর্থ্যের বাইরে তা, তাই কাছাকাছি জেলার স্কুলে ভর্তি হলো। মেধা ও একই স্কুলে ভর্তি হলো। যদিও চাইলেই অন্য আরও বড়ো স্কুলে ভর্তি হতে পারতো কিছুতেই যে দুজনে আলাদা হবে না। একই জায়গায় মেডিকেল কলেজে পড়ত ওই গ্রামেরই ছেলে তড়িৎ। ওই ওদের ভর্তির সব ব্যবস্থা করে। তিনজন এক সাথে যাতায়াত করে। পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করে চেতনাকে। চেতনা স্বপ্ন দেখে অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু ভাবে কি করে সম্ভব? ওদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। বাবা গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করেন আর কিছু জমি জায়গা আছে। আজকের দিনে হয়ত অনেক কিন্তু তখন ওটা সামান্যই ছিল। জানে যে জেলা মানে মেধার বাবা সবরকম সাহায্য করবে ও চাইলে কিন্তু ও চায়না সেটা। ও নিজের স্কলারশিপের টাকাতেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। তাই পড়াশোনা খুব মন দিয়ে করে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করত হবে। জয়েন্টে ভালো ফল করতে না পারলে সরকারি কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। পড়াশোনা হবে না এইসব ভেবে দিনরাত পরিশ্রম করে আর ওকে সাহায্য করে যায় তড়িৎ। এইভাবে কখন যে দুটি মন কাছাকাছি এসে যায় নিজেরাই বুঝতে পারে না। জানে শুধু মেধা। ওই ওদের মধ্যে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। এরপর জয়েন্টে খুব ভালো ফল করে চেতনা শিবপুরে পড়তে চলে যায়। মেধা ওখানেই ইকনমিক্স নিয়ে ভর্তি হয়। মেধার বাবা চেতনাকে পড়াশোনা করতে সাহায্য করতে চান। কিন্তু চেতনার বাবা নিজের জমিজমা বিক্রি করে মেয়েকে পড়াবেন ঠিক করেন। তড়িৎ আর মেধা মাঝে মাঝে যায় চেতনার সাথে দেখা করতে। ছুটি ছাটা য় চেতনা চলে আসে গ্রামে। এইভাবে চলতে থাকে ওদের ছাত্র জীবন। তারপর হঠাৎ হয় ছন্দপতন। মেধার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হতেই জানতে পারে ওর বিয়ের কথা। মেধার বাবা একদিন ফোন করে বিয়ের বাজার করার জন্য। আর সেই সময় যে ধাক্কা টা খায় আজও তার রেশ রয়ে গেছে। গাড়িতে তড়িৎ কে দেখে অবাক হয়ে বলে, তুমি! মেধার জন্য শাড়ি কী তুমি পছন্দ করবে? তখন জেঠুর উত্তর শুনে চমকে ওঠে। জেঠু মানে মেধার বাবা বলেন ও না থাকলে বরের পোশাক পছন্দ করবে কে? আচ্ছা তাই বলো। আমি ভাবলাম ---বলে ও চুপ করে যায়। মেধা তখন বলে ওঠ ওঠ গাড়িতে ওঠ। পরে সব জানবি। চেতনা বুঝতে পারে না কি ঘটছে। চেতনা কোনোরকমে ওদের সঙ্গ দেয়। ওকে হোস্টেলে ছাড়ার সময় মেধা বলে আগামী অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে আমার বিয়ে। তোকে কিন্তু দুই তিন দিন আগে আসতে হবে। তুই ছাড়া আমার আর কে আছে বল? ওকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ওদের গাড়ি ছেড়ে দেয়। চেতনা যেন খুশি হতে পারছে না মেধার বিয়ের কথা শুনে। মনে হচ্ছে কি যেন আড়ালে রাখতে চাইছে মেধা। তড়িৎ কে ফোন করলে ফোন ধরে না। চেতনা আরও উতলা হয়ে পড়ে। ওর রুমমেট সুদেষ্ণা বোঝে কিছু একটা চলছে ওর মধ্যে। বারবার জানতে চায় চেতনার কাছে যে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা? কিন্তু কি করে বলবে ও নিজেই তো কিছু বুঝতে পারছে না। এগিয়ে আসে মেধার বিয়ে। দুদিন আগে না বিয়ের আগের দিন বিকেলে গিয়ে পৌঁছায় বাড়িতে। ও তখনই মেধার বাড়িতে যেতে চাইলে মা বলে কতদিন পরে এলি, আজ আর যেতে হবে না, একদম কাল সকালে যাবি। মায়ের কথা শুনে অবাক হয় চেতনা। যে মা ওকে সবসময় মেধার সাথে থাকতে বলত আজ সেই কিনা বলছে কাল যাবি! বিস্মিত হয় ও। বিস্ময়ের আরও বাকি ছিল যা বিয়ের দিন ঘটতে থাকে। আর একটা ব্যাপার খুব অবাক লাগে মেধা সেই থেকে আর ওর সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। ওর বাবা আবার ফোন করে চেতনা কে আসতে বলেন। সকাল বেলা ওদের বাড়িতে যায় ওকে দেখে খুব খুশি হয় মেধার বাবা। মেধা ও রাগ দেখিয়ে বলে এতক্ষণে আসার সময় হলো তোর? চেতনা কিছু বলে না কাজে লেগে পরে। ওদের বাড়ির আত্মীয়স্বজন সবাই চেতনা কে চেনে। তাই ও সহজেই কাজে লেগে যায়। এক ফাঁকে শুধু জিজ্ঞাসা করে তড়িৎ দা আসবে না? মেধা বলে সময় হলেই আসবে। যেন না আসলেও হয় আরকি। চেতনা আর কিছু বলে না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয় চেতনা মেধাকে সাজাতে বসে, সাজানো হয়ে গেলে বাড়ি যায় নিজে তৈরি হতে। মা, বাবা ওনাদের সাথেই চেতনা কে যেতে বলেন। ও একটু বিশ্রাম করে তৈরি হয়ে মা, বাবার সাথে ওদের বাড়িতে ঢোকে। কে যেন হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় বর আসনের কাছে। বরকে দেখে ও বাকরূদ্ধ হয়ে যায়। এ কাকে দেখছে ও! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ও প্রায় পড়েই যেত ওর বাবা এসে না ধরলে। নিজেকে কোনো রকমে সামলে মেধার কাছে যায়। তখন রাগে, দুঃখে, অভিমানে ঠিক রাখতে পারছিল না। ওর মা, বাবা ওকে ধরে রাখেন। মা হয়ত কিছু আন্দাজ করেছিলেন। মেধা কে অভিনন্দন জানিয়ে কোনো রকমে বাড়ি ফিরে আসে। তিনজনের কিছু খাওয়া হয়না। মেধার বাবা অনুরোধ করেন কিন্তু চেতনা শরীর খারাপ লাগছে বলে চলে আসে। মায়ের কাছে খুবই কাঁদে। মুখে কিছু না বললেও মা সব বোঝেন! পরেরদিন ভোর হতেই চলে যায় কলেজে। সুদেষ্ণা ওকে দেখে অবাক হয়। বোঝে কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। জানতে চাইলে চেতনা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। সব বলে সুদেষ্ণাকে। সুদেষ্ণা ওকে বলে আগে তুই কেঁদে হালকা হয়ে নে তারপর কথা বলব। দুদিন চেতনা বিছানা থেকে ওঠে না। সুদেষ্ণা খাবার এনে ওকে খাওয়ায়। তৃতীয় দিনে ওকে সুদেষ্ণা বলে শোনা তোর ভবিষ্যৎ সামনে। কলেজ ক্যাম্পাসিং এ ভালো ভালো কোম্পানি আসবে তার জন্য তৈরি হতে হবে। ওরা তোর সাথে কী করেছে সেটা ভেবে তুই তোর স্বপ্নটাকে নষ্ট করে দিতে পারিস না। আমি সব মেনে নিতাম যদি এটা মেধা না হয়ে অন্য কেউ হতো। কিন্তু মেধা! আমি ভাবতে পারছি না এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা ও কি করে করল? তাও আমার সাথে। যে কোনো দিন আমাকে হিংসা করেনি! আমি কিছু বুঝতে পারছি না। এই সময় সুদেষ্ণা পাশে না থাকলে হয়তো চেতনার জীবনটা নষ্ট হয়ে যেত। অনেক কষ্টে আবার পড়াশোনাতে মন দেয়। পাশ করার আগেই ভালো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব পেয়ে যায়। প্রথম যায় ব্যাঙ্গালোর, তারপর মুম্বাই আর সেখান থেকে আমেরিকা। এর মধ্যে মা বাবাকে কোলকাতায় নিয়ে চলে আসে। গ্রামের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। দেশে ফিরলেও সুদেষ্ণা ছাড়া কারও সাথে যোগাযোগ রাখেনি।। মহালয়ার কদিন আগে যখন ফোন টা আসে একটু ঘাবড়ে গেছিল অচেনা নম্বর দেখে। ইন্ডিয়ার কল বোঝে, তাই ভাবে মা, বাবার আবার কিছু হলো বোধহয়। কিন্তু ফোন ধরে বুঝতে পারে বৃন্দাবন জেঠু। বলেন, মা আমার একটা অনুরোধ, তুই একবার গ্রামে আয়, মেধা তোকে দেখতে চায়, ও খুব অসুস্থ, মৃত্যু শয্যায়। একথা শুনে চেতনার মনে যত অভিমান ছিল এক নিমেষে কোথায় চলে গেল। রাগ তো কবেই পড়ে গেছে। সোজা দেশে আসার ব্যবস্থা করে;মা, বাবাকেও কিছু জানায়নি। এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি নিয়ে সোজা গ্রামে। মেধা দের বাড়ির সামনে গাড়ি থামতেই জেঠু বেরিয়ে এলেন। যেন ওর জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন। হাত ধরে নিয়ে যান সোজা মেধার কাছে। ওর ঘরে ঢুকে দেখে একদম বিছানার সাথে লেগে আছে প্রানবন্ত মেধা। আয় তনি আমার কাছে আয় বলে কৃশ হাত বাড়িয়ে দেয়। তনি নামটি কতদিন পর শুনল চেতনা। এটা ছিল মেধার দেওয়া নাম। ওর এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয় চেতনার। ও ছুটে গিয়ে হাতটা ধরে। কি হয়েছে তোর? তুই ঠিক ভালো হয়ে যাবি। আমি এসে গেছি আর কিছু হবে না তোর। চেতনার চোখে জল। তুই আমার জন্য কাঁদছিল কেন? আমার তো এটাই হবার ছিল। আমি তোর সাথে যেটা করছি সেটা যে মহাপাপ। বিশ্বাস ঘাতকতা করেছি তোর মত বন্ধুর সাথে। আমার পাপের শাস্তি ভোগ করছি। কেন এমন বলছিস? তুই চুপ কর। বলে চেতনা। আমাকে আজ বলতে দে। আজ তোর কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করবো বলেই আমার প্রাণ রয়েছে এখনো। চেতনা অস্থির হয়ে জিজ্ঞাসা করে জেঠু কি হয়েছে ওর? তড়িৎ সামনে আসে, বলে ওকে বলতে দাও কথাগুলো নাহলে ও মুক্তি পাবে না। আমাকে আগে কেন খবর দাওনি তোমরা? কি করে দিতাম? তোমাদের কোনো ঠিকানা জানা ছিল না। তোমাকে যেদিন জানালাম ওই দিন কলকাতায় একটা কাজে গেছিলাম, সেখানেই কাকুর সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যায়। সব জানাই ঠাকুরের। কাকু তোমার নম্বর দেন। চেতনা চুপ করে থাকে। ক্ষীণ গলায় মেধা বলে, বন্ধু হয়ে আমি যা করেছি তার কোনো ক্ষমা হয়না জানি। আমাকে না তড়িৎ কে পারলে ক্ষমা করিস সব শোনার পর। বলতে থাকে মেধা, আমরা তিনজন যখন একসাথে যাতায়াত করতাম করুন আর তড়িৎ বিজ্ঞান বিভাগের হওয়ায় পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করতে খুব। আমি সেখানে চুপচাপ থাকতাম। ধীরে তড়িৎ তোকে পছন্দ করতে শুরু করে আমিই প্রথম সেটা আন্দাজ করি। আমি নিজে অনুঘটকের কাজটা করি। কিন্তু কোথায় একটা খিচ ছিল মনে। তাই তুই যখন পড়তে চলে গেলি আমরা একসাথে যাতায়াত করতাম ঠিক কিন্তু ওর মুখে সবসময় তোর কথা, তোদের ভবিষ্যতের কল্পনা লেগে থাকত। যে আমি তোকে কোনো দিন হিংসা করিনি, তোর রেজাল্ট ভালো হলে আমি পাড়া মাথায় করেছি আনন্দের চোটে সেই আমার মনে তখন হিংসা বাসা বাঁধে। মনে মনে ভাবি কি করে তড়িৎ আমার হবে। ঠিক সেই সময় সূযোগ পেয়ে যাই। তড়িৎ বিদেশি ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চ শিক্ষা নিতে চায় কিন্তু টাকার জন্য আটকে যাচ্ছে। আমি তখন বাবাকে বললাম টাকা টা দিতে, বাবা এককথায় রাজী হয়ে গেল । জানিস তো আমি কিছু চাইলে বাবা না করে না। আমিই তখন বাবা কে বললাম তুমি শুধু তড়িৎ এর বাবার থেকে আমার আর তড়িৎ এর বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসবে। বাবা আমার কথায় কোনো প্রশ্ন না করে রাজী হয়ে গেল এবং কাজটা করেও ফেলল। কিন্তু তড়িৎ যখন এসব জানতে পারল তখন ও সবাইকে সব বললো। ওর মা বাবা কে এবং আমার বাবা কে। আমার বাবা প্রথমে বিশ্বাস করেনি কারণ আমি বাবা কে বলেছিলাম আমরা পরস্পর কে ভালোবাসি। তড়িৎ যখন কিছুতেই বিয়ে করতে চায় না তখন বাবা বুঝতে পারে আমি কোন ফন্দি করছি, বাবা আমাকে অনেক বোঝায় কিন্তু তখন তো আমার মাথায় শয়তান বাসা বেঁধে আছে। আমি আত্মহত্যার হুমকি দিই। ব্যস সবাই চুপচাপ বিয়ে তে রাজী হয়ে যায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত ও আমাকে স্ত্রী বলে স্বীকার করাতো দুর আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টাও থাকে না। আমি কিছু দিনের মধ্যেই নিজের ভুল বুঝতে পারি। কিন্তু লোকসমাজের জন্য আলাদা হতে পারিনি। আমার একটা ভুল আমাদের তিনটি জীবন নষ্ট করে দিল। আমি তোর কাছে ক্ষমা চাইবো না। শুধু তড়িৎ কে তুই আর ভুল বুঝিস না। ওর কোনো দোষ ছিল না। এই সত্য টা বলব বলেই আমি বেঁচে আছি। এবার আমি নিশ্চিন্তে মরব। এই বলে একটা দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে মেধা। আর তখনই চন্ডী মন্ডপে বেজে ওঠে বিসর্জনের বাজনা। ঘরে নীরবতা ছেয়ে যায়। চেতনার চোখ থেকে বসু ধারা বয়ে যায়। তড়িৎ নীরবে তাকিয়ে থাকে মেধার মুখ পানে। আর ওর বাবা শুধু বলেন মেধার স্বীকারোক্তি আজ ওকে কষ্টের জীবন থেকে মুক্তি দিল।

অক্টোবর ০৭, ২০২২
নিবন্ধ

অপরাজেয় (ছোট গল্প)

আজ অনিন্দ্য আর অপরাজেয় দুজনের জীবনের এক বিশেষ দিন। সারা ভারতের নতুন শিল্পীদের যে প্রতিযোগিতা হচ্ছে আজ ছিল তার ফাইনাল। সেখানে টুবাই অর্থাৎ অপরাজেয় প্রথম হয়েছে। অনিন্দ্য সিঙ্গেল ফাদার হিসাবে আজ সফল। কে বলে বাবারা কিছু পারেনা; মা না থাকলে সন্তান সঠিক ভাবে মানুষ হয়না!! আজ সেই সব কথা কে ভুল প্রমাণিত করে দিয়েছে অনিন্দ্য। এতে অবশ্যই ওর মা বাবার ভূমিকা ও আছে। আর সব থেকে বড় যে সেই টুবাই সব সময় বাবার কথা শুনে চলেছে। ওদের বাবা ছেলের মধ্যে বোঝাপড়া খুব সুন্দর। টুবাই এর সব বন্ধুরা ও খুব ভালোবাসে অনিন্দ্যকে। এবং বলে কপাল করে বাবা পেয়েছে অপরাজেয়। তবে অনিন্দ্য র চলার পথটা যে এরকম হবে সেটা বোধহয় ও নিজেও কখনো ভাবেনি। পারমিতা আর অনিন্দ্য একই কলেজে পড়তো। কলেজের অ্যানুয়াল প্রোগ্রামের দিন সিনিয়র অনিন্দ্যর মঞ্চে গান গাইতে উঠে চোখ আটকে যায় হরিণ নয়না পারমিতার দিকে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে নতুন ভর্তি হয়েছে ওদের কলেজে। অনিন্দ্যর ব্যাচের একটি মেয়ের মাধ্যমে পরিচয় তার থেকে বন্ধুত্ব। কলেজ শেষের পর বুঝতে পারে দুজনেই যে বন্ধুত্ব পরিণত হয়েছে ভালোবাসায়। দুজন দুজনকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। অনিন্দ্য তখন একটা কলেজ ক্যাম্পাসিং এ একটা ভালো কোম্পানিতে জয়েন করেছে আর পারমিতার ফাইনাল ইয়ার। অনিন্দ্য পারমিতাকে বলে ওর পরীক্ষা হয়ে গেলে বাড়িতে বিয়ের কথা বলবে। কিন্তু পারমিতার ইচ্ছা বিয়ে টা পরে করবে। তাই অনিন্দ্য আর এগোয় না। অনিন্দ্য অফিস আর পারমিতা কলেজ সামলে নিজেদের জন্য সময় বের করে দেখা করে। এইভাবে কাটতে থাকে সময়। অনিন্দ্য এরমধ্যে একটা ব্যাপার বোঝে পারমিতা খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ও আরও পড়তে চায়,মাস্টার্সে ভর্তি হয়। পারমিতা চায় অনিন্দ্য এম বি এ করে আরও উন্নতি করুক চাকরিতে। কিন্তু অনিন্দ্য ভালোবাসে গান। তাই ও বেশি উন্নতি চায় না। বলে কি হবে বেশি উন্নতি করে , যদি নিজের মত করে বাঁচতেই না পারলাম। পারমিতা নানাভাবে বোঝায় কিন্তু অনিন্দ্য একইভাবে বলে। আসলে ছোটো থেকে গান নিয়ে বেড়ে ওঠা অনিন্দ্য গান ছাড়া ভাবতে পারে না। তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেটা চাকরির ইঁদুর দৌড়ে সামিলহয় না। পারমিতা মাস্টার্স করার পর একটা খুব ভালো চাকরি পায়। এর মাঝে ওরা রেজিস্ট্রি টা করে নিয়ে ছিল। পারমিতা চাকরি পাওয়ার পর ওর বিত্তশালী বাবা যখন বিয়ের জন্য বলেন তখন পারমিতা বাবাকে সব বলে। বাবা রাজী হয় না। পারমিতা ও খুব জেদি, ও একদিন অনিন্দ্যর কাছে চলে আসে। অনিন্দ্যর মা বাবা ওকে আদর করে ঘরে তোলেন। একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠান করে ওদের বিয়ে টা হয়ে যায়। ধনীর দুলালী পারমিতার অনেক অসুবিধা হয় ওদের ওখানে; প্রথম প্রথম মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেনি যে তা নয়। কিন্তু পার্থক্য বেশি হলে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। পারমিতার সেরকম সমস্যা হত থাকে বিয়ের এক বছরের মধ্যে। অনিন্দ্য বুঝতে পারে তাই ও চেষ্টা করে পারমিতার জন্য একটু অন্যরকম করে ভাবতে। পারমিতা যেন এক বছরের মধ্যে হাঁপিয়ে ওঠে। ওর অভ্যাস গুলো যে অন্যরকম। ওর মত করে যাতে থাকতে পারে অনিন্দ্য সে জন্য কোম্পানির ফ্ল্যাটে চলে যায় ওকে নিয়ে।দেখতে দেখতে বিয়ের পাঁচ বছর হয়ে যায়। এমন সময় একদিন পারমিতা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তার দেখালে জানতে পারে ও মা হতে চলেছে। এই খবর শুনে অনিন্দ্য খুব খুশি হয়। ওর মা বাবাও খুব খুশি হয়। অনিন্দ্য এই খবরটা পারমিতার মাকে জানায়। ওনার সব ভুলে আনন্দে মেতে ওঠেন। কিন্তু পারমিতা খুশি হতে পারে না। ও বলে এই বাচ্চা ও চায় না। ওর কেরিয়ারের এখন উন্নতির সময় ও ঝামেলা নিতে চায় না। কিন্তু সবাই ওকে অনেক বোঝায়, আর তাতে ও রাজী হয় তবে একটা শর্তে। বাচ্চার ছমাস হয়ে গেলে আর কোনো দায়িত্ব ও নেবে না। তাতেই অনিন্দ্য রাজী হয়। অনিন্দ্য ভাবতে থাকে এ্ কোন পারমিতা! যাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল এ তো সে নয়। বাচ্চাকে দেখতে সারাদিনের আয়া রাখলো। বাচ্চার দিকে যেন পারমিতার খেয়াল নেই। ছেলের যখন দুবছর বয়স তখন কর্মসূত্রে বিদেশ চলে গেল পারমিতা। যাবার আগে শুধু বলে গেল অনিন্দ্য কে তোমার ছেলে কে তোমার মত করে মানুষ করো। সেই থেকে আজ পর্যন্ত অনিন্দ্য, ওর ছেলে টুবাই এর সব। অবশ্য ওর মা বাবা র অবদান কম নয়। পারমিতার চলে যাবার খবর পেয়ে অনিন্দ্য র মা বাবা ওর কাছে চলে আসেন নাতি কে সামলাতে। পারমিতার মা বাবা ও আসতেন। মেয়ের এই ব্যবহার ওনাদের ও কষ্ট দিয়েছিল। অনিন্দ্য ছেলেকে যখন সঙ্গীত জগতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তখন ওর শ্বশুর মশায় আপত্তি জানায়। তারপর থেকে যোগাযোগ আবার কমে যায়। এইভাবে অনিন্দ্য র লড়াই শুরু হয়। টুবাই অর্থাৎ অপরাজেয় একটু বড়ো হয়ে যখন মায়ের কথা জানতে পারে আত্মীয়দের মাধ্যমে তখন থেকেই ও ঠিক করে জীবনে কিছু করতে হবে যাতে মা কে বোঝানো যায় বাবা সঠিক ভাবে ওকে মানুষ করেছে। পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো , তার সাথে বাবার মতো গান করে খুব ভালো। ও পড়াশোনার সাথে গানটাকে ও সমান গুরুত্ব দেয়। আর ওর এই কাজে সবসময় ওর পাশে থাকে ওর বাবা। তাই স্কুলে ওর সব শিক্ষকরা ওকে খুব স্নেহ করেন। ক্লাসে প্রতি বছর প্রথম হয় তার সাথে যেকোনো সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা মানেই অপরাজেয় থাকবেই আর নাম সার্থক করে আসবে পুরস্কার হাতে নিয়ে। আজকের দিনটিও সেই রকমই একটা দিন। যেখানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে ও প্রথম হয়েছে। গত কয়েক মাস বাড়ির বাইরে থেকেছে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছে এই সফলতা পাবার আশায়। আজ ও সফল হয়ে। আজ সবাই এসেছে এই অনুষ্ঠানে। নাম করা একটা চ্যানেল লাইভ দেখাচ্ছে প্রোগ্রামটা। স্টেজে যখন ওর নাম ঘোষণা করা হয় তখন অনিন্দ্যর চোখে জল আসে আনন্দ আর উত্তেজনায়। অপরাজেয় রুদ্র কে যখন কিছু বলতে বলা হয়। পনের বছর বয়সের ছেলেটা যেন হঠাৎ করেই অনেক বড়ো হয়ে ওঠে। ও বলে আজ আমি যার জন্য এই সাফল্য পেয়েছি আগে তাকে ডেকে নিতে চাই, আমার বাবা শ্রী অনিন্দ্য রুদ্রকে। যার আত্ম ত্যাগ আর আমার প্রতি বিশ্বাস আজ আমাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। অপরাজেয় র সাথে স্টেজের অ্যাঙ্কর ডাকতে থাকে অনিন্দ্য কে; আর অগনিত দর্শক করতালি দিয়ে বাবা ছেলের এই সাফল্যকে অভিনন্দন জানায়। অন্যদিকে পনেরো বছর বিদেশে থেকে দুদিন আগে দেশে ফিরে যখন এই অনুষ্ঠানের কথা জানতে পারে, নিজেকে আটকাতে পারে না। অনুষ্ঠানের স্পনসর হওয়ার দরুন সূযোগ ছিল তার সদ্ব্যবহার করে এক মা যে একসময় নিজের কেরিয়ারের জন্য শিশু সন্তান কে ফেলে বিদেশে পাড়ি দিয়ে ছিল। আজ অনুষ্ঠানের শেষে যখন সবাই বাবা আর ছেলেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে তখন কর্মজীবনে সফলতার শিখর ছুঁয়েও ভীষণভাবে নিঃসঙ্গ, হতাশাগ্রস্ত পারমিতা চোখ ভর্তি জল নিয়ে একা নিজের গাড়িতে ওঠে। আজ চাইলেও আর যেতে পারে না নিজের ফেলে আসা ঘরে। তবে এটা আজ পারমিতা নিজের কাছে স্বীকার করে যে অনিন্দ্য ঠিক ছিল আর আজও ওই সঠিক। ও ঠিকই বলত যে সফলতা তাকেই বলে যে কাজ করে আমি এবং আমাকে ঘিরে থাকা সবাইকে খুশি করতে পারব। অর্থ আর ক্ষমতাই সব নয়। অর্থবান আর ক্ষমতাবান মানুষের চারপাশে অনেকে থাকে কিন্তু কেউ নিঃস্বার্থ ভাবে থাকে না। একটা সময় বুঝতে পারে যে সে বড্ড একা। আজ পারমিতা কর্মজীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছিয়েছে ঠিকই কিন্তু ও আজ খুব একা। আজ ভাবে একটা সুন্দর সুখী জীবন তো পেতে পারত; আজ ও সন্তান গর্বে গর্বিত হতে পারত, সে ও নিজের হাতে বন্ধ করে দিয়েছে। খুব ইচ্ছা হচ্ছে আজ ছেলেটাকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে। ফোনটা বের করে কল করে একটা -- আমাকে অপরাজেয় রুদ্র রায় নম্বর টা হোয়াটসঅ্যাপ করো। মূহুর্তে টুং করে নম্বর টা এসে যায়। একমূহূর্ত ভাবে তারপর লেখে অনেক বড়ো হও, বাবার মুখ উজ্জ্বল করো। খুব ভালো থেকো।লিখে পাঠাবে কিনা ভাবে। তারপর------একটা ছোট্ট উত্তর আসে------ অনেক ধন্যবাদ।বাবার নামই উজ্জ্বল করার চেষ্টা করছি। আমার বাবা একাই একশো। ভালো থাকবেন।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২২
নিবন্ধ

অদৃশ্য সাহায্য (ছোট গল্প)

ট্রেনটা স্টেশনে থামল রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। স্টেশন প্রায় ফাঁকা, দুচার জন এদিক ওদিক শুয়ে আছে।এতো রাতে ট্রেন থেকে খুব একটা বেশি লোক নামে না। আজ আগের ট্রেনটা মিস হয়ে যাওয়ার পর অর্ণা যখন বলল ওর সঙ্গে যেতে তখন ঋতু গেলোনা; মায়ের ওষুধ ফুরিয়ে গেছে যে। সেগুলো কিনতে গিয়েই আজ ট্রেনটা মিস হয়ে গেলো।স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়ে দেখল চারিদিক সুনসান। ফোনটাও অফ হয়ে গেছে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ায়।বাড়িতে ফোন করার ও উপায় নেই। দেখে মনে হচ্ছে লোড শেডিং।ভাগ্য ভালো ছোট টর্চ টা সাথে ছিলো। ঋতু হাঁটতে লাগল।একটু যেতেই মনে হলো পিছনে কেউ আসছে। দেখল একটা ফাঁকা রিক্সা।ঋতু অবাক হলো কই দেখতে পায়নি তো স্টেশন এ। ভাবল অন্ধকারে দেখতে পায়নি।রিক্সাচালক একটি অল্পবয়সি ছেলে। ঋতুকে বললো দিদি আমার রিক্সায় ওঠো আমি ওদিকেই যাবো, তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দেবো। ঋতুকে ইতস্তত করতে দেখে ছেলেটি বলল দিদি আমি তোমার ছোটোভাইয়ের মতো। এতো রাতে একা যেও না রাস্তা ভালো না। ঋতু আর দ্বিধা না করে উঠে পরলো রিক্সায়।ছেলেটি বেশ ভালো, গল্প করতে করতে এগিয়ে চলল। পথে একটা পুরনো বাড়ি পরে, ওখান টা বেশ গা ছম ছম করতে লাগল। ছেলেটা তখন বলল ভয় কি দিদি আমি আছি। তখন সমীর মানে রিক্সাচালক ছেলেটি বলতে লাগল---- পাঁচ বছর আগে এরকম এক অন্ধকার রাতে তোমার মতো একজন মেয়ে হেঁটে ফিরছিল। তখন ঐ বাড়িটার দাওয়ায় একদল ছেলে আড্ডা দিত মানে মদের আসর বসত। এই পথ দিয়ে মানুষের যাওয়ার উপায় ছিলোনা। মেয়েটি তোমার মতই নিরুপায় হয়ে এই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। যেই না ওদের সামনে এসেছে ওর শুরু করলো বদমাইশি। আমি তখন একজনকে নামিয়ে বাড়ি ফিরছি। চিৎকার শুনে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে ওদের বাধা দিলাম। কিন্তু ওরা ছিলো চার পাঁচ জন। আমি তাও ওদের আটকাতে চেষ্টা করলাম। মেয়েটিকে বললাম তুমি পালাও। মেয়েটি আমার কথা শুনে ছুট লাগালো। ওর পিছনে একজন ছুটল। বাকিরা আমাকে মারতে লাগল। শেষে একজন ওদের ফেলে দেওয়া বোতল ভাঙা আমার পেটে ঢুকিয়ে দিল। আমি আর পারলাম না। পরে গেলাম মাটিতে, রক্তে ভেসে গেলো আমার দেহ। ছেলে গুলো আমাকে মরে যেতে দেখে পালিয়ে গেলো।এই দিদি তুই এখানে কি করে এলি? আমি তো তোকে আনতে স্টেশন গেছিলাম, কিন্তু দেখতে পেলাম না।ঋতু ভাই কে কিছুই বলতে পারলো না। শুধু বলল পরে বলবো। এখন ঘরে চল। ওর ভাই অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। কিছুই বুঝল না।সমীররা এইভাবেই সাহায্য করে যায় মানুষ কে......।।

জুলাই ১০, ২০২২
নিবন্ধ

ফিরে পেলাম (ছোট গল্প)

অনেক দিন পরে আবার যেন নিজেকে ফিরে পেলাম। আমার স্বপ্ন, ইচ্ছা যা প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলাম আবার যেন ফিরে পাব এই আশা মনে জাগছে।ভাবছেন তো কে আমি! কি বলছি, কেনই বা বলছি? আজ আমার কথা বলব বলেই আমার প্রিয় জায়গায় এসে বসেছি।আমি অনামিকা দত্তগুপ্ত। আমার বাবা অতুল দত্তগুপ্ত পেশায় শিক্ষক, মা তমালী দত্তগুপ্ত গৃহবধূ, কিন্তু গান ওনার প্রথম ভালোবাসা। আমার ঠাম শকুন্তলা দেবী খুব ভালো আবৃত্তি করতে পারেন। আর আমার ছোটো ভাই রূপ দারুণ তবলা আর মাউথ অর্গান বাজায়। বুঝতেই পারছেন কিরকম আবহাওয়ার মধ্যে বড়ো হয়েছি। সবাই বলত আমার গলায় নাকি মা সরস্বতী বাস করেন। গান ছিল আমার প্রাণের চেয়ে ও প্রিয়। আর ছোটো থেকে আমি কবিতা লেখা, গল্প লেখা এসব একটু আধটু করতাম। আমাদের বাড়িতে সকাল সন্ধ্যে গান বাজনা, আবৃত্তি চলত। এইভাবেই বড়ো হতে থাকি। চোখে স্বপ্ন ছিল বড়ো হয়ে হয় সাহিত্যিক হবো নয়তো গানকে নিয়েই এগিয়ে যাবো। আমার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। আমার বাবার একজন বন্ধু এতে অনেক সাহায্য করতেন। আমাকে খুব স্নেহ করতেন। একটা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের। রফিকুল ইসলাম তার নাম। তার ছেলে আতিফ আমার ছোটো বেলার বন্ধু। আমরা একসাথে বড়ো হয়েছি। আমি উচ্চ মাধ্যমিকের পর সাহিত্য নিয়ে পড়তে কলকাতার একটি কলেজে ভর্তি হলাম। সাথে গানের জন্য পন্ডিত ইরশাদ খান সাহেবের কাছে ভর্তি হলাম।এই গানের স্কুল আর কলেজ এই ছিল আমার জগত। আতিফ ও একই কলেজে ভর্তি হওয়ায় মা বাবা একটু নিশ্চিন্তে ছিলেন। আমরা কলেজের কাছে মেসে থাকতাম। পাশাপাশি ছিল মেস দুটো। আমাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক ছিল সবাই ভাবত আমরা আপন ভাই বোন। বেশ চলছিল কলেজ আর গান নিয়ে আমার জীবন। হঠাৎ করে সেখানে ঝড়ের মতো এসে সব উলোট পালোট করে দিল অন্বয় সাহা। গানের স্কুলে পরিচয়। গুরুজির সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র। একটা অনুষ্ঠানে গুরুজি আমাদের দুজনকেই নিয়ে যান। সেখান থেকেই শুরু। সেই পরিচয় আস্তে আস্তে গভীর হয়। আমাদের কলেজেরই সিনিয়র ছাত্র ছিল। কলেজের অনুষ্ঠান গুলোতেও আমরা একই সঙ্গে গান করতাম। অনি সবসময় বলতো ভালোই হবে আমরা একসাথে সব জায়গায় গান করতে যেতে পারবো। আমার তখন মনে হতো আমি খুব ভাগ্যবতী যে ওর মতো একজনকে পেয়েছি। কলেজের শেষে ও পুরো সময় গানের জন্য দিয়ে দেয়। সেই সময় একটা প্রতিযোগিতায় আমরা দুজনেই অংশগ্রহণ করি। আমি প্রথম আর ও দ্বিতীয় হয়। সেদিন ওর মুখে যেন অন্ধকার নেমে এসেছিল। আমার খুব খারাপ লাগে। এরপর আবার একজায়গায় ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আমার মনে হয় এবার হয়তো আমাদের সম্পর্কে এর আঁচ লাগবে; কিন্তু অদ্ভুত ভাবে ও চুপ করে যায়। না এবার যেন আমাকে বেশি উৎসাহ দিতে থাকে। আমি খুব খুশি হই ওর কাছে এরকম ব্যবহার পেয়ে।একদিন আমার তখন ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গেছে আমাকে বলে ওর মাকে সব বলেছে আমার কথা। উনি আমাকে দেখতে চেয়েছেন। আমাকে ওদের বাড়িতে নিয়ে গেল। মা, বাবা আর ছেলে এই ওদের ছোটো পরিবার। আমাকে তো এমন ভাবে আপ্যায়ন করলেন ওর মা যেন আমাকে কতদিন চেনেন। আমি ওনার ব্যবহার দেখে আপ্লুত হয়ে গেলাম। বর্ং বাবা মানুষটিকে কেমন যেন লাগলো। এরপর ওর মায়ের জোরাজুরিতে আর আমার ইচ্ছার কাছে মা, বাবা, ঠাকুমা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমার বিয়ে দেন। এর মধ্যে আমার আর একজনের সাথে সবসম্পর্ক নষ্ট হয় সে হলো আতিফ। বাড়ির লোকের পর আমার সবচেয়ে বেশি হিতাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু আমি সেটা তখন বুঝতে পারিনি। ও আমাকে বারবার বলেছিল রুম (আমার ডাক নাম) একটু ভাব ; এত তাড়াহুড়ো করিসনা। আমার তখন মনে হয়েছিল ও যেন চায় না আমার বিয়েটা হোক। মনে অন্যরকম চিন্তা আসছিল। ওকে একদিন খুব অপমান করলাম। ও মুখ নিচু করে সেই যে গেল আর আমার সামনে বিয়ের আগে আসেনি। আমিও যাইনি ওর কাছে। অথচ বোনের বিয়েতে ভাইয়ের যে ভূমিকা থাকে সব আমার বাবার সাথে থেকে পালন করেছে।যাইহোক বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়ের পর মাস ছয়েক এখানে ওখানে ঘুরে কাটিয়ে দিলাম। এরমধ্যে আমার রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে, আমি মাস্টার্স করার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।এবার আমাদের দুজনের আবার গানের জগতে ফেরার পালা। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমার রেওয়াজ করার সময় ওর মায়ের কোনো না কোনো দরকার পরে যেত যেখানে আমার যেতেই হতো। এইভাবে বেশ কিছু দিন চলার পর একদিন ধৈর্য হারিয়ে বলেই ফেললাম আপনার সমস্যা টা কি বলুন তো? যখনই আমি রেওয়াজ করতে বসি তখনই আপনি কোনো না কোনো কারণে আমাকে ডাকেন কেন? আমার শাশুড়ির উত্তরে আমি হতবাক হয়ে যাই। কি হবে সকাল সন্ধ্যা এত চেঁচিয়ে? বিয়ে হয়ে গেছে এবার সংসারে মন দাও।আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই। কোনো কথা যোগায় না আমার। ভাবি যে মানুষটা এত প্রশংসা করতো আমার গানের তার কাছে সেটা এখন চেঁচানো!অন্বয় বাড়ি ফিরলে ওকে একথা গুলো বলি। ওর জবাব আমাকে আরও অবাক করে। মা তো খারাপ কিছু বলেননি। উনি চেয়েছেন তুমি ওনাকে একটু সাহায্য করো। গান তো আছেই।মানে! আমি রেওয়াজ করা ছেড়ে তোমার মায়ের সঙ্গে শুধু সংসারের কাজ করবো! এমন কথা তো ছিল না। আমরা একসাথে গান করব এটাই তো বলেছিলে। আমি অন্বয় কে বলি।হ্যাঁ তখন সেটাই মনে হয়েছিল, তাই বলেছিলাম। আজ মনে হচ্ছে মায়ের ও কিছু চাওয়ার থাকতে পারে।আমি যতই দেখছি আর শুনছি অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমি কোনো কথা বললাম না এটুকু বুঝতে পারলাম কোথাও একটা ভুল আমি করে ফেলেছি। কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পারলাম না।একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম আমাকে পড়তে কিন্তু বাধা দেয় না। আমি ইউনিভার্সিটি যাই তাতে ওদের কোনো সমস্যা নেই। যত সমস্যা গান নিয়ে।আমি মায়ের কাছে গেলাম পরীক্ষা দেব ওখান থেকে এই বলে। কিন্তু মন আমার খুব অস্থির হয়ে রয়েছে কী ঘটছে, আর কেন? এই ভেবে। আতিফের সাথে প্রায় এক বছর যোগাযোগ করিনি। আমি বারণ করেছিলাম বলে ও আমার সাথে যোগাযোগ রাখেনি। কিন্তু আমার মনে হলো ওর সাথে কথা বলা খুব দরকার। মা, বাবা কে বলতে পারবো না আমার সমস্যার কথা। একমাত্র ওকেই বলা যাবে। একদিন ওদের বাড়িতে চলে গেলাম। গিয়ে জানতে পারলাম ও মাস্টার্স করতে নর্থ বেঙ্গল গেছে। আমার সব যেন কেমন লাগতে লাগল, বুঝতে পারলাম না কি করব। ফিরে এলাম বাড়িতে। ঠাম কিছু হয়তো আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। আমার ঘরে এসে একদিন বললেন দিদি ভাই কিছু যদি বলার থাকে আমাকে বল, মনের মধ্যে রাখলে শরীর, মন দুইয়ের ক্ষতি হবে। আম শুধু কেঁদে ছিলাম কিছু বলতে পারিনি।পরীক্ষা হয়ে যেতেই অন্বয় আমাকে নিয়ে যেতে এল। আমি কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই বললাম মায়ের কাছে আর কটা দিন থেকে তারপর যাব।অন্বয় ফিরে গেল। আমি আরিফকে ফোন করলাম, কিন্তু ও ধরলো না। পাঁচ বারের বার ধরল। বল, কি বলবি। আমি কিছু বলতে পারলাম না শুধুই কেঁদে গেলাম।আরে কাঁদতে কাঁদতেই বল কি হয়েছে।তুই একবার আসবি? তোকে আমার খুব প্রয়োজন।কি হয়েছে আগে বল।আমি বললাম আমার যা মনে হচ্ছে, আর যা ঘটছে।চুপচাপ সব শুনল, তারপর বললো ঠিক আছে দেখছি আমি কবে যেতে পারি। তুই সাবধানে থাকিস। এই বলে সেদিন রেখে দিলাম।মনটা একটু হালকা লাগলো। পরদিন শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেলাম। এবার ঠিক করলাম আমি আমার মতো গান করে যাব। সেই মতোই করতে লাগলাম। আর আমার শাশুড়ি মা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলেন আমার গান যাতে না হয়। অন্বয় ও মায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে লাগলো। ও যেন চায়না আমি গান টা করি।কিন্তু আমি কারনটা বুঝতে পারছিলাম না। অথচ গুরুজির কাছে যখন যেতাম তখন একদম অন্য মানুষ। আমার খুব অবাক লাগতো।একদিন গুরুজির কাছে গান শিখতে গেছি,; উনি বললেন দিল্লিতে একটা মিউজিক সম্মেলন আছে সেখানে আমাদের কয়েকজনকে যেতে হবে।অন্বয় হঠাৎ বলে ওঠে যে অনামিকা যেতে পারবে না। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার সাথে কি হচ্ছে বুঝতে পারিনা।গুরুজি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন কি অসুবিধা আছে? আমার কিছু বলার আগেই অন্বয় বলে ওঠে আমার মা অসুস্থ, এতদিন ওর পরীক্ষা ছিল তাই মা কিছু বলেন নি ; কিন্তু এখন যদি ও আবার গান করতে দিল্লি চলে যায় মা খুব মুশকিলে পড়বেন। আমার অবাক হওয়ার আরও বাকি ছিল। ওখানে কিছু বলতে পারলাম না। বাড়িতে ফিরে যখন জিজ্ঞাসা করলাম যে কেন এরকম বললো, মা তো ভালোই আছেন। তখন মা আর ছেলে মিলে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করলো। যা শুনে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম।সেবার আমার যাওয়া হলো না। অন্বয় গেল একাই। আতিফ এইসময় এসে ফোন করে বললো ও এসেছে। আমি শাশুড়িকে বললাম যে বাবার বাড়ি যাব, খুব একটা খুশি না হলেও রাজী হয়ে গেল।এই সুযোগে আমি বাড়িতে যেতে পারলাম শুধু নয় আতিফের সাথে এতদিন পরে দেখা হওয়ায় অনেক কথা হলো। এত কথা যে জমে ছিল আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।আতিফের ও অনেক কথা জমা হয়ে ছিল। ওর নতুন প্রেম ও তার কথা সব বললো। বেশ সময় কাটলো অনেক দিন পরে।এভাবেই দিন কাটতে লাগল। কিন্তু মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন থেকেই গেল যে কেন এমন হলো। বিয়ের তৃতীয় বছর, একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বললেন গুরুজি। আবার অন্বয় বললো আমি যেতে পারবো না। কিন্তু এবার আমি জোর করে বললাম যে যাব। অন্বয় একটু অপ্রস্তুত হলেও কিছু বললো না।বাড়িতে ফিরে শুরু হলো অশান্তি। আবার যা মুখে এল তাই বললো। কিছুতেই আমাকে গানের জগতে যে থাকতে দেবে না এটা বুঝতে পারলাম। একটা কথা আমার মনকে খণ্ডবিখণ্ড করে দিল যখন অন্বয় বললো তোকে আমি ভালোবাসি নি কোনোদিন ; তুই আমার পথের কাঁটা তাই তোকে আমার পথ থেকে সরাতে ভালোবাসার নাটক করে বিয়ে করেছি।আমার পায়ের তলায় আর কিছু রইলো না। আমি ঘরে চলে গেলাম চোখে জল শুকিয়ে গেছে, শুধু ভাবছি কি করব! এমনসময় আমার মাথায় কারো স্পর্শ অনুভব করলাম , তাকিয়ে দেখি আমার শ্বশুর মশায়।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন এখন কাঁদবার সময় নয়, ভালো করে ভাব মা তুই কি চাস। এভাবে নিজেকে মেরে থাকতে পারবি? ওরা তোর বড়ো ক্ষতি করে দেবে। তুই চলে যা এখান থেকে। কথাটা কোনো রকমে বলে চলে গেলেন।আমার কি করা উচিত ভাবতে লাগলাম। এমন সময় আমার শাশুড়ি মা এসে বললেন, রাগারাগি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে ওটা ধরে বসে থাকতে নেই। তোমার চা এনেছি খেয়ে নাও। শাশুড়ির এই মিষ্টি ব্যবহার আমাকে অবাক করলো আর শ্বশুর মশায়ের বলা কথাটা মনে পড়লো। তাই তখন মা কে বললাম, আমি এখন চা খাব না, আমার ভালো লাগছে না। উনি বললেন ,আমার উপর কেন রাগ করছো মা? আমি তো ভালো ভেবেই চা টা আনলাম। তোমার মন ভালো নেই, চা খেয়ে একটু বিশ্রাম নাও সব ঠিক হয়ে যাবে । আমার মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, এত করে চা খেতে কেন বলছেন! আমি তখন বললাম ঠিক আছে আমি মুখে চোখে জল দিয়ে খাচ্ছি। আপনি গিয়ে চা খান।উনি বললেন না এখনি আমার সামনে খাও।আমার মনে সন্দেহ দৃঢ় হলো। আমি বললাম আমি কথা দিচ্ছি খাব।আমার কাছে একথা শোনার পর উনি যেন নিশ্চিন্তে চলে গেলেন।আমি চা টা না খেয়ে ফেলে দিলাম। এবার ঠিক করলাম আমি একটু নাটক করবো। আতিফের সাথে কথা বলে সব ঠিক করলাম।রাতে শুয়ে রইলাম গলায় ব্যথা বলে। খেয়াল করলাম আমি যখন গলায় ব্যথা বললাম মা, ছেলের মুখে কেমন আনন্দ খেলে গেল।মুখে ভাব করলো যেন খুব চিন্তায় পড়ে গেল।আমি ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, ঘুম ভেঙে দেখলাম পাশে অন্বয় নেই। ভাবলাম রাগ হয়েছে তাই ঘরে আসেনি। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। জল নেই দেখে জগ নিয়ে জল আনতে রান্না ঘরে যাচ্ছি কথার আওয়াজ এলো। একটু এগিয়ে গিয়ে শুনতে গেলাম কে এত রাতে কার সাথে কথা বলছে। দেখি মা আর ছেলে, মা বলছে তোকে বলেছিলাম না মাথা গরম না করে কাজ করতে। ভালো মুখে কাজ হাসিল করতে হয়। কালকেই তো তোকে বললাম ওর গলায় যদি আওয়াজ না থাকে গাইবে কি করে। তুই সব গন্ডগোল করে দিচ্ছিলি। আমি দেখ কোনো রকমে সামলে নিলাম। চা তো খেল আর বলছে গলায় ব্যথা।আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। এ কি শুনছি আমি মানুষ এরকম ও হয়! আমি জল নিয়ে ঘরে এলাম। ভাবতে লাগলাম কি করা উচিত আমার। ঠিক করলাম আর নয় আমাকে এখান থেকে পালিয়ে যেতেই হবে। আমি চুপ করে শুয়ে রইলাম। অনেক রাতে অন্বয় এসে পাশে শুলো, আমার গা টা ঘিনঘিন করে উঠলো। ভাবলাম আমি একৈই ভালোবেসে ছিলাম! সারারাত চোখের জলে বালিশ ভেজালাম। সকালেও শুয়ে রইলাম। একটু বেলা হতেই আমার কথা মত ঠাম ফোন করল, বাবার শরীর খারাপ আমাকে যেতে হবে। অন্বয় যেতে পারবে না বলে দিল। আমি একাই বেরিয়ে পড়লাম। ব্যাগে নিজের সমস্ত দরকারী কাগজ পত্র, গয়না, যা যা নেওয়া সম্ভব সব নিয়ে। ওদের বুঝতে দিলাম না, যে আমি চিরস্থায়ী ভাবেই চলে যাচ্ছি। শুধু শ্বশুর মশায় কে প্রনাম করার সময় বললাম, আসছি বাবা, আশীর্বাদ করুন যেন সফল হই। উনি হাসলেন আমার দিকে তাকিয়ে।সেই বেরিয়ে এলাম। এরপর আতিফের সাথে বাড়ি ফিরলাম। ওকে আমার সাথে দেখে সবাই অবাক হলেও ঠাম সব জানত। আতিফ আর ঠাম বাবা, মাকে সব বললো। সবাই অবাক হয়ে গেলো শুনে। কিন্তু পাশে সবাই। তারপর ডিভোর্সের জন্য আমি আবেদন করলাম। সবাই আমাকে ভীষণ ভাবে আগলে আগলে রাখতো। আতিফের গার্ল ফ্রেন্ড অনীশাও আসত আমার কাছে। আমি ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। অনীশা আর আতিফ যথাসাধ্য চেষ্টা করতো আমাকে ভালো রাখার। এক সপ্তাহ হলো দীর্ঘ দুবছর লড়াইয়ের পর অবশেষে ডিভোর্স হয়েছে। আজ আমি মুক্ত, জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমি শুধু নিজের স্বপ্ন গুলো কে নিয়ে বাঁচবো। আবার তুলে নিয়ছি তানপুরা, আমার লেখার খাতা। যা আমার বেঁচে থাকার রসদ। আমার পুরোনো লেখার খাতাটা অনীশা নিয়ে গেছে একজন প্রকাশকের কাছে, বলেছেন ছাপা হবে। আমার পরিবারের আর বন্ধুর সাহায্যে আজ আমার আমি কে ফিরে পেলাম।শ্রীমতী রাখি রায়

জুলাই ০৩, ২০২২
নিবন্ধ

Ascension: উত্তরণ (বাংলা ছোট গল্প)

ম্যাগাজিনের কভার পেজে নিজের ছবি দেখতে দেখতে সোহিনী হারিয়ে গেলো অনেক দিন আগে...প্রায় পাঁচবছর আগে মফস্বল থেকে কলকাতা শহরে এসেছিল পড়াশুনা করতে। তবে ছোট থেকেই তার ইচ্ছা ছিলো মডেলিং করার। মা বাবার চোখের আড়ালে সে ব্যাপারে নিজেকে তৈরি করতে থাকে। পড়াশুনা খারাপ করে না, নব্বই শতাংশ নম্বর পেয়ে 12 পাস করে চোখে অনেক স্বপ্ন নিয়ে শহরে এসেছে সোহিনী। কলকাতায় আসার একটা কারন অবশ্যই মডেলিং। তাই এই কলেজে পড়ার সুযোগ টা সে ছাড়ল না। কলেজের থেকে একটু দুরে পিজি পেল। ঐ কলেজ এর অনেক মেয়েই থাকে। মা বাবা তাকে রেখে ফিরে গেলো বাড়ি।বেশ চলছে দিন গুলো পড়াশুনা নিয়ে। দু একজন বন্ধু ও হয়েছে এর মধ্যে।কলেজে সোহিনীর বন্ধুত্ব হয় ঋষিকার সঙ্গে; বড়লোকের মেয়ে, মডেলিং করে, অনেক বন্ধু নিয়ে সারাদিন ঘুরে বেরায়। সোহিনী ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে একটাই কারনে। তবু সোহিনীর মনে একটা প্রশ্ন থেকে যায় কী কারনে ঋষিকা ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে?সোহিনী পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওর স্বপ্ন কেও রূপ দিতে চায় বাস্তবে;চেষ্টা চলতে থাকে। ঋষিকা ওকে সাহায্য করবে বলে।প্রাথমিক অনেক কিছু শেখায় ও। এভাবে দুজন অনেক সময় কাটায়।এর মধ্যেই একদিন পরিচয় হয় ঋষিকার বন্ধু সিধ এর সঙ্গে; আসল নাম সিদ্ধার্থ। ওরা এরকম অদ্ভুত ভাবেই নাম গুলোকে ছোট করে। ছেলেটা কে ভালো লাগেনা সোহিনীর। তবু সহ্য করতে হয় ঋষিকার জন্য।কেনো জানি না ওকে খুব প্রশ্রয় দেয় সবাই।এভাবেই কাটছিল , হটাত সেদিন ঋষিকা যে প্রস্তাব দিল তা শুনে তো সোহিনীর মাথা ঘুরে গেলো। বুঝল কেনো ঋষিকা সোহিনীর মতো মফস্বলের মেয়েকে এতো গুরুত্ব দেয়। নিজের কেরিয়ারের সিঁড়ি বানাবে ভেবেছিল সোহিনিকে সেটা বুঝতে পারে সোহিনী। সে তো এভাবে মডেলিং করতে চায় না। সে এসব কথা শুনেছিল স্কুলের এক বন্ধুর কাছে তখন ও মানতে রাজি হয়নি। আজ ঋষিকার কথা শুনে মনে পড়ে গেলো । না আর ওসব ভাববে না মন দিয়ে পড়াশুনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। না তারপর থেকে আর সোহিনী কথা বলেনি ঋষিকার সঙ্গে।তিন চারদিন হয়ে গেলো সোহিনী কথা বলেনি ঋষিকার সঙ্গে...এভাবে একসপ্তাহ কেটে গেলো। তারপর ঘটল সেই ঘটনা...প্রায় সাতদিন হয়ে গেল সোহিনী ঋষিকার সঙ্গে কোনো যোগযোগ রাখেনা। নিজের পড়া নিয়েই ব্যস্ত। না এর মধ্যে কলেজ ও যায়নি। সামনে পরীক্ষা তাই পড়ায় মন দিয়েছে। একদিন পায়েল ফোন করে কী যেন বলতে গিয়েও থেমে গেল শুধু বলল সাবধানে থাকিস। কিছু বুঝতে পারল না।সোহিনী সব ভুলে শুধু পড়া নিয়ে আছে। সে দিনটা ছিল শুক্রবার; ব্যাচের অন্য বন্ধু যারা ওর সঙ্গে ফেরে আজ পড়তে আসেনি কেউ। তাই সোহিনী একাই ছিলো। আজ ঋষিকা ফোন করে সরি বলল আর সোমবার কলেজ যেতে বলল।সোহিনীর খুব আশচর্য লাগল। কিন্তু বেশি কিছু ভাবল না। রাতে পড়ে একা ফিরছে। রাত প্রায় 10 টা। কলকাতা হলেও পাড়ার রাস্তাটা ফাঁকা ই। ও তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগল। এমন সময় উল্টো দিক থেকে একটা বাইক আসতে দেখে ও একদম রাস্তার ধারে সরে গেলো। নাঃ! পারল না নিজেকে বাঁচাতে। মাথায় হেলমেট পড়ে ছেলে দুটো কী যেন ছুড়ে দিল। উঃ বাবারে! জ্বলে গেলো জ্বলে গেলো বলে রাস্তায় শুয়ে পরলো সোহিনী। তারপর সব অন্ধকার।জ্ঞান ফিরল যখন তখন ও হাসপাতালের বিছানায়। মা বাবা শুকনো মুখে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আবার জ্ঞান হারাল। এভাবে বেশ কিছুদিন কাটলো। আস্তে আস্তে উঠে বসল। না এই তিন মাস তার কাছের কোনো বন্ধু আসেনি ওর খোঁজ নিতে। ঋষিকা বা অন্য কেউ অদী গ্রুপের। শুধু পায়েল রোজ আসত। তিনমাস পর ছাড়া পেল সে; বাড়ি ফিরল। শুরু হলো নতুন লড়াই। না সব যেন কেমন হয়ে গেল। কে এমন করল বুঝেও বুঝতে পারছে না। সেদিন গলাটা খুব চেনা লেগেছিল। কোনো প্রমান নেই। নিজেকেই দোষারোপ করতে লাগল। ঘর বন্দি করে ফেলল নিজেকে। মা বাবা কী করবে কিছুই বুঝতে না পেরে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। হাসপাতালে এই ডাক্তারবাবু খুব কেয়ার নিয়েছেন। তাই ওনার কাছেই গেলেন সোহিনীর বাবা।একদিন ডাক্তারবাবু হাজির হলেন ওদের বাড়িতে। প্রথম থেকেই উনি সোহিনীর প্রতি একটু স্নেহশীল।উনি মাঝে মাঝে আসতে লাগলেন ওদের বাড়িতে। একটু একটু করে ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে লাগলেন; সঙ্গে ছিল সোহিনীর এক বন্ধু পায়েল যাকে ও পাত্তাই দিত না। কিন্তু বিপদে সেই ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।সোহিনীর একটা গুনের কথা যেটা কেউ জানত না পায়েল সেটা আবিষ্কার করে জানায় ডাক্তারবাবুকে। শুরুহয় অন্যভাবে সোহিনীর স্বপ্ন পুরণ করার চেষ্টা। সোহিনী অনেক স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।এবার পায়েল আর ডাক্তারবাবু দুজনে মিলে বোঝাতে থাকে পরীক্ষা দিতে হবে। রাজি হয় সোহিনী। প্রাইভেটে গ্রাজুয়েশন শেষ করে। এবার শুরু অন্য কাজ। পায়েল আর অরুদার সাহায্যে সোহিনী নিজের আঁকার গুণ কাজে লাগায়। ড্রেস ডিজাইন করতে থাকে। খোলা হয় বুটিক। এখানে বলি অরুদা আর কেউ না ঐ ডাক্তারবাবু। হ্যাঁ সোহিনীর নিজের দাদা হয়ে উঠেছে। আজ সেই দাদার হাতধরেই সোহিনীর স্বপ্ন পূরণ। সোহিনীর বানানো ড্রেস এখন চারদিকে খুব নাম করেছে। সাতদিন আগে ওর বানানো ড্রেস পড়ে র্যাম্পে হেঁটেছে ওর মতই অ্যাসিড আক্রন্তরা। অনেক নাম করা ব্যক্তিত্ব এসেছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। ঋষিকাকেও নিমন্ত্রণ করেছিল সোহিনী।সবাই সোহিনীর এই উদ্যম কে সাধুবাদ জানিয়েছে। সব থেকে বড়কথা আজ সেই র্যাম্পের ছবি নাম করা ম্যাগাজিনর কভার পেজ এ।আজ সোহিনী অনেককিছু যেমন হারিয়েছে পেয়েছেও অনেককিছু। অরুণাভ আর পায়েল তার জীবনের দুই নক্ষত্র। আজ এদের দুজনের জন্য সোহিনী হারিয়ে যায়নি। সোহিনীর দুচোখে আজ আনন্দধারা।লেখিকাঃ রাখি রায়রাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাতআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

অক্টোবর ২৫, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ভুতনির বন্যা দেখতে নদীপথে মন্ত্রীদল! বানভাসিদের জন্য কী পরিকল্পনা রাজ্যের?

মালদহের ভুতনিতে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আজ এলাকায় পৌঁছেছে রাজ্য সরকারের মন্ত্রীদল। ইতিমধ্যেই মালদহে পৌঁছেছেন একাধিক মন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন জেলার সাংসদ, বিধায়ক এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। জলমগ্ন দুর্গম এলাকাগুলি নদীপথে ঘুরে দেখার কথা রয়েছে মন্ত্রীদের।মন্ত্রীদলের মধ্যে রয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী অজয় পোদ্দার, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং দমকল ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। প্রথমে মন্ত্রীরা রতুয়ায় যাবেন। সেখান থেকে যাওয়ার কথা রয়েছে ভুতনিতে। দুপুরে বন্যাত্রাণ শিবিরও পরিদর্শন করবেন তাঁরা।এর পাশাপাশি ব্লক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মন্ত্রীরা। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি, ত্রাণের ব্যবস্থা এবং মানুষের প্রয়োজন নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হবে। এই সফরের পর ভুতনির জলবন্দি এলাকাগুলিতে পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।ভুতনির পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও রিপোর্ট দেবেন মন্ত্রীরা। অর্থাৎ শুধু বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন নয়, বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর এলাকায় কী ভাবে কাজ শুরু করা হবে, সেই বিষয়টিও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বহু মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শঙ্কর ঘোষ আরও জানিয়েছেন, মালদহে নদীভাঙন এবং বন্যা দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডকে একসঙ্গে পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে।এদিকে ভুতনিতে গঙ্গার জলস্তর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জলস্তর ১৭ সেন্টিমিটার কমেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। চলতি মরশুমে এক দিনে জলস্তর কমার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ পতন বলে দাবি করা হচ্ছে।তবে জল কমলেও এখনও স্বস্তি ফেরেনি ভুতনিতে। মানিকচকে গঙ্গার জলস্তর ২৫.৩৪ মিটারে নেমে এসেছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যা চরম বিপদসীমার থেকে এখনও চার সেন্টিমিটার বেশি। ফলে নদীর জলস্তর কমলেও বিপদ পুরোপুরি কাটেনি।ভুতনির বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। কোথাও তাকালেই চোখে পড়ছে জল। টানা বহু দিন ধরে জলবন্দি থাকার কারণে একাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। দুর্গম এলাকায় অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।চরম বিপদসীমার উপরে থাকা গঙ্গা পেরিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। নৌকায় করে জল পেরিয়ে অসুস্থ মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁদেরও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। অন্যের প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তাঁরা কাজ করছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।জলস্তর কমার ফলে পরিস্থিতিতে সামান্য স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও ভুতনির বহু এলাকায় এখনও জল রয়েছে। তাই এখন নজর শুধু গঙ্গার জলস্তরের দিকে নয়, জলবন্দি মানুষের চিকিৎসা, ত্রাণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দিকেও। মন্ত্রীদের এই সফরের পর ভুতনির পুনর্গঠন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

২৪৯ বছরের ঐতিহাসিক মহাকরণে ফিরছে সচিবালয়! ১৩ বছর পর বদলাতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক ঠিকানা

দীর্ঘ ১৩ বছরের ব্যবধানের পর ফের ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার আবহে পুরনো মহাকরণে ফিরতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের ছয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দফতরের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয় নবান্ন থেকে। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই মতোই চলছে সংস্কারের কাজ।১৩ বছর আগে নবান্নে সরেছিল সচিবালয়প্রায় ২৪৯ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং একসময় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৩ বছর আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সচিবালয় স্থানান্তরিত হয় নবান্নে। এরপর থেকে সেখান থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে পুরনো ভবনের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে পুরোপুরি ফেরা সম্ভব হয়নি। এবার সেই কাজ দ্রুত শেষ করে ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।সংস্কারকাজ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকরাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। পূজা উৎসবের আগেই কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের দফতরও দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর দফতর তৈরির প্রস্তুতিরাইটার্স বিল্ডিংয়ে যাঁদের দফতর চালু করার প্রস্তুতি চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেনশুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীদিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীঅগ্নিমিত্রা পাল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীশঙ্কর ঘোষ পর্যটন মন্ত্রীশারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীঅজয় পোদ্দার পূর্তমন্ত্রীসব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ করে ঠিক কবে থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে, তা সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন বাংলার ৫ অফবিট ডেস্টিনেশনে, পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্রের হাতছানি

দুর্গাপুজো মানেই বাংলার পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পুজোর ছুটিতে দিঘা, মন্দারমণি, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সের পরিচিত জায়গাগুলিতে ভিড় জমে। ফলে নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান যাঁরা, তাঁদের অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে ভিড় এড়িয়ে একটু অন্যরকম পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাইলে বেছে নিতে পারেন বাংলার কয়েকটি অফবিট ডেস্টিনেশন।পাহাড়ি গ্রাম থেকে গভীর জঙ্গল, নির্জন সমুদ্রসৈকত থেকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু জায়গা, যেখানে মিলতে পারে শান্ত পরিবেশ ও প্রকৃতির সান্নিধ্য। পুজোর পর্যটন ভিড় শুরু হওয়ার আগেই ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচটি জায়গায়।১. টোডে ও টাংতাকালিম্পংয়ের কাছে ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে অবস্থিত টোডে ও টাংতা। প্রায় ৪,৩০০ ফুট উচ্চতায় ন্যোরাভ্যালি জাতীয় উদ্যানের প্রান্তে থাকা এই দুই পাহাড়ি গ্রাম এখনও অনেকটাই পর্যটকদের ভিড়ের বাইরে। মেঘে ঢাকা পাহাড়, নির্জন পথ এবং সবুজে ঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।এখানে ঘুরে দেখতে পারেন এলাচের বাগান, মেমোরিয়াল চার্চ এবং পুরনো বৌদ্ধ মঠ। ভারত-ভুটান সীমান্তের দৃশ্যও এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে ও ফার্মস্টে।২. লেপচাখাহালকা ট্রেকিংয়ের পাশাপাশি পাহাড় ও জঙ্গলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আলিপুরদুয়ারের লেপচাখা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। বক্সা জঙ্গলের মাঝে পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই গ্রাম থেকে পরিষ্কার আকাশে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ সমতলভূমি ও নদীগুলির মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।লেপচাখায় বসবাসকারী ড্রুকপা সম্প্রদায়ের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও রয়েছে। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখা মিলতে পারে তারাভরা আকাশের। পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারেন লেপচাখা ভিউপয়েন্ট, বক্সা ফোর্ট, ড্রুকপা গ্রাম এবং হিমালয়ান বার্ডিং ট্রেল।৩. বাঁকিপুটদিঘা কিংবা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে পূর্ব মেদিনীপুরের বাঁকিপুট ঘুরে আসতে পারেন। ঘন ঝাউবন ঘেরা এই সমুদ্রতট তুলনামূলকভাবে শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত।নির্জন সৈকতে হাঁটাহাঁটি, বালির উপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা দেখা কিংবা স্থানীয় সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নেওয়াসব মিলিয়ে ছুটি কাটানোর জন্য জায়গাটি আকর্ষণীয় হতে পারে। বাঁকিপুট সি বিচের পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন দারিয়াপুর লাইটহাউস এবং পেটুয়াঘাট ফিশিং পোর্ট।৪. দুয়ারসিনিপুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুয়ারসিনি প্রকৃতি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধনের জন্য পরিচিত। চারপাশের পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের জঙ্গল এবং পলাশের সৌন্দর্য এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাথুরে সাতগুরাং নদী জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যের পাশাপাশি স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, নাচ-গান ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে। দুয়ারসিনি ফরেস্ট এবং বুড়ুডি ড্যাম এখানকার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। থাকার জন্য রয়েছে পর্যটন দফতরের কটেজ ও বিভিন্ন ইকোট্যুরিজম ব্যবস্থা।৫. আমাদপুরঅল্প সময়ের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাদ পেতে চাইলে পূর্ব বর্ধমানের আমাদপুর ঘুরে আসতে পারেন। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে রাজবাড়ি, পুরনো পুকুর, মন্দির এবং জমিদারি আমলের বিভিন্ন স্থাপত্যের নিদর্শন।আমাদপুর রাজবাড়ি, টেরাকোটা মন্দির, দোলমঞ্চ এবং বাঘবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। গ্রামের অলিগলি ধরে হাঁটলে বাংলার পুরনো দিনের গ্রামীণ জীবনের এক অন্যরকম ছবি চোখে পড়বে।পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র কিংবা ইতিহাস পুজোর ছুটিতে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে বাংলার এই পাঁচটি অফবিট গন্তব্যে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতে পারেন। তবে যাওয়ার আগে যাতায়াতের ব্যবস্থা, থাকার জায়গা এবং স্থানীয় পর্যটন সংক্রান্ত তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

‘কিছু প্রত্যাহার করব না’, হলদিয়া আদালতে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মিলন প্রধানের! নন্দীগ্রামে নতুন মোড়

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার হলদিয়া আদালতে তোলা হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। আদালত চত্বরে তাঁকে ঘিরে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। কংগ্রেসের নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি প্রার্থী পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন? জবাবে মিলন বলেন, শাসক দল ভয় পেয়েছে, কিছু প্রত্যাহার করব না।শুক্রবার চণ্ডীপুর থানা এলাকার একটি মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ২০০৭ সালের চারটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, প্রমাণ লোপাট এবং অস্ত্র-সহ অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মামলা রয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানা কার্যকর করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।মিলনকে গ্রেফতার করার পর থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গ্রেফতারির সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্য দিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, পুলিশের কাজ পুলিশ করেছে এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই বলে তারা দাবি করেছে।কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এই গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছে। রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, মিলন প্রধানের গ্রেফতারি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয় এবং তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচনী লড়াইয়ের বদলে বিরোধীদের সরিয়ে দিতে চাইছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় তারা পিছিয়ে যাবে না।তবে পুলিশের বক্তব্য আলাদা। তাদের দাবি, পুরনো মামলায় আদালতের জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করতেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে গ্রেফতারির আইনি কারণ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগদুই দিকই সামনে এসেছে।এর মধ্যেই শনিবার আদালতে দাঁড়িয়ে মিলন প্রধান জানিয়ে দিলেন, তিনি প্রার্থী পদ থেকে কিছু প্রত্যাহার করবেন না। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্যে তার জবাব মিলেছে।নন্দীগ্রাম এমনিতেই রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমি আন্দোলনের পর থেকেই এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সেই নন্দীগ্রামেই এ বার উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী প্রত্যাহার, নতুন সমর্থন এবং কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারি ঘিরে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। ফলে ভোটের আগে এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সরগরম হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও বিরাট নাটক! ভোটে না লড়ার ঘোষণার পর তড়িঘড়ি কেন অবস্থান বদল মমতা ঘনিষ্ঠ রবিউল আলমের?

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও কি প্রার্থীহীন হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির? শনিবার সকাল থেকে এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। প্রথমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান বদল করলেন রেজিনগরে মমতা গোষ্ঠীর তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানান, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচনী প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর অভিযোগ, কর্মীদের মাঠে নামানো যাচ্ছে না। নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।রবিউলের কথায়, নতুন নির্বাচনী প্রতীক অল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তোলা কঠিন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমার সিদ্ধান্তের কথা নেত্রীকে জানিয়েছি। কর্মীদের মাঠে-ময়দানে নামানো যাচ্ছে না। সিম্বল একটা বড় ফ্যাক্টর।বেলডাঙা থানায় যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদলতবে বেলা বাড়তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। রবিউল জানান, একাধিক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরপর তিনি বেলডাঙা থানায় যান। সেখানে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পর ফের নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রবিউলের বক্তব্য, পাশে মাত্র ১০ জন কর্মী থাকলেও তিনি ভোটের লড়াই চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনী প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন রেজিনগরের এই প্রার্থী। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রেজিনগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতার মনোনয়ন প্রত্যাহার, গ্রেফতার মিলন প্রধানএর আগে শুক্রবার নন্দীগ্রামে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। পরে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপরই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতার হন মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।নতুন নাম ও প্রতীক ঘিরে বদলেছে সমীকরণতৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নতুন প্রতীক অল্প সময়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সমস্যা নিয়ে রবিউলের মন্তব্যও সেই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন রবিউল আলম চৌধুরী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে থাকেন কি না, এবং প্রচারে দলের কর্মীরা কতটা সক্রিয় হন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উপনির্বাচনের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

গুগল ম্যাপ দেখেই বাইক চালাচ্ছিলেন! হঠাৎ রাস্তা শেষ, বাইক-সমেত খাদের নীচে যুবক

মোবাইলে গুগল ম্যাপ খুলে সেই পথ দেখেই বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন যুবক। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটি যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই রাস্তার একটি ভাঙা অংশের কাছে গিয়ে বাইক-সহ গভীর খাদে পড়ে যান। দীর্ঘ সময় পর গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।আহত যুবকের নাম প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পেশায় কেবল অপারেটর। কাঁকসার বনকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙাল এলাকার বাসিন্দা প্রসূন শুক্রবার রাতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। অচেনা পথে সুবিধার জন্য মোবাইলে গুগল ম্যাপ চালু করেছিলেন তিনি। ম্যাপে যে রাস্তা দেখানো হচ্ছিল, সেই পথ ধরেই বাইক চালাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় পৌঁছনোর পর বিপদ ঘটে। ওই এলাকা পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে গিয়ে সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাপে সেই বিপজ্জনক অংশের কোনও ইঙ্গিত ছিল না বলে জানা গিয়েছে।অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে বাইক চালানোর সময় প্রসূন সেই খাদের কাছে পৌঁছে যান। বাইকের গতি বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামলানোর সুযোগ পাননি বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। বাইক-সহ তিনি খাদের নীচে পড়ে গুরুতর জখম হন।এ দিকে রাতে অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও প্রসূন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপর তাঁর মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। মোবাইলের অবস্থান পাণ্ডবেশ্বরের ওই খনি এলাকার আশপাশে দেখাচ্ছিল।এর পরেই পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকালে এলাকায় গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, খাদের মধ্যে পড়ে রয়েছে প্রসূনের বাইক। কিছুটা দূরে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। শেষ পর্যন্ত প্রসূনকে খাদের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তা হলে প্রসূন কী ভাবে সেই পথে পৌঁছলেন, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কি শুধুমাত্র গুগল ম্যাপে দেখানো পথ অনুসরণ করেই ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, নাকি অন্য কোনও কারণে সেই রাস্তা ব্যবহার করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।দুর্ঘটনার সময় বাইকের গতি কত ছিল, রাস্তার পরিস্থিতি কেমন ছিল এবং ঠিক কোন জায়গায় বাইকটি খাদে পড়ে যায়, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গুগল ম্যাপে ওই রাস্তা কেন দেখাচ্ছিল এবং বিপজ্জনক অংশটি কেন চিহ্নিত ছিল না, সেই প্রশ্নও উঠছে।তবে আপাতত পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি আহত প্রসূনের চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুর্ঘটনার কারণ পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে, ঠিক কী ভাবে গুগল ম্যাপের পথ ধরে চলতে গিয়ে পরিত্যক্ত খনি এলাকার গভীর খাদে বাইক-সহ পড়ে গেলেন ওই যুবক।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

সকালে বললেন মনোনয়ন তুলবেন, দুপুরে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন! রবিউলকে ঘিরে রেজিনগরে নাটক

রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই তৈরি হয়েছিল টানটান উত্তেজনা। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, রেজিনগরেও কি একই পথে হাঁটবেন মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী? শনিবার সকালে সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়। রবিউল নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের কথা ভাবছেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে যায় পরিস্থিতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করছেন না।শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রবিউল জানিয়েছিলেন, তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে পারেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের উপর চাপ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনেক কর্মী সরে যাচ্ছেন বলেও জানান রবিউল। ফলে কর্মীদের ছাড়া কী ভাবে ভোটের লড়াই করবেন, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি।রবিউলের কথায়, কর্মীরাই যদি না থাকেন, তা হলে একা ঘুরে ভোট করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি বদলে যায়। সাড়ে ১২টা নাগাদ রবিউল জানান, তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরই তাঁর এই মতবদল বলে জানান তিনি। রবিউলের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতার নির্দেশ মেনে তিনি ভোটের লড়াইয়ে থাকবেন।রবিউল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথামতো তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের যে চিন্তাভাবনা করেছিলেন, তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নতুন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারে নামার কথাও জানান তিনি। অর্থাৎ, সকালের সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থীর অবস্থান বদলে যায়।রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতা শিবিরকে নতুন নাম ও প্রতীকে লড়তে হচ্ছে। দুই কেন্দ্রেই আগে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল। পরে কমিশনের সিদ্ধান্তের জেরে পরিস্থিতি বদলে যায়।নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছিল।সেই জল্পনার মধ্যেই প্রথমে রবিউলের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত এবং পরে মমতার সঙ্গে কথা বলে লড়াইয়ে থাকার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তৈরি করে। তবে পরবর্তী আপডেটে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত রবিউল আলম চৌধুরী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সকালের সিদ্ধান্ত, দুপুরের মতবদল এবং পরে ফের মনোনয়ন প্রত্যাহারসব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনে রবিউলকে ঘিরে তৈরি হয় একাধিক নাটকীয় মোড়।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal